২৪ -এর গণঅভ্যুত্থান ছিল আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসনের রাজনৈতিক দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ। রাষ্ট্রযন্ত্রের অপব্যবহার, দেশের সম্পদ লুণ্ঠন, গুম, হত্যা, নির্যাতন, ভোটাধিকার হরণ ও দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে দেশের ছাত্র-জনতার সম্মিলিত প্রতিরোধ।
জুলাই গণআন্দোলনে বলিষ্ঠ ও সক্রিয় ভূমিকা পালনকারী ছাত্রদলের অন্যতম শীর্ষ নেতা মো: তরিকুল ইসলাম তারিক বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন।
কোটা সংস্কার আন্দোলনকে সরকার পতনের গণঅভ্যুত্থানে রূপ দিতে মাঠ পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো: তরিকুল ইসলাম তারিক।
ছাত্রদলের অন্যতম শীর্ষ নেতা হিসেবে তিনি জুলাই আন্দোলন চলাকালে বিএনপির হাইকমান্ডের নির্দেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সমন্বয়কদের সাথে যোগাযোগ এবং আন্দোলনকে গতিশীল রাখতে রাজপথে সক্রিয় অংশগ্রহণসহ আর্থিক বিষয়ে তদারকি করেন।
তিনি যশোর জেলার শার্শা থানার পাকশিয়া গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। মো: আব্দুল রহিম এবং ফুলমতি বেগম দম্পতির কনিষ্ঠ সন্তান তারিক। সাত ভাই বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট। তিনি পাকশিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউ থেকে উচ্চ সিজিপিএ নিয়ে অনার্স এবং মাস্টার্স শেষ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সলিমুল্লাহ মুসলিম হল শাখা ছাত্রদলের সাবেক নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই তারিকের রাজনীতিতে সক্রিয়তা শুরু হয়। ২০১২ সালে ছাত্রদলের কর্মসূচিতে অংশ নেয়ায় এসএম হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের হাতে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন তিনি। ২০১৩ সালে আবারো ছাত্রলীগের হামলায় হল থেকে রাতের বেলায় এক কাপড়ে বের করে দেয়া হয় এবং তার সম্পদ লুট করা হয়। একই বছর তারেক রহমানকে নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদে বিক্ষোভে অংশ নেন।
২০১৪ সালের প্রহসনের নির্বাচন বাতিলের দাবিতে আন্দোলনে সক্রিয় থাকায় কাকরাইলে যুবলীগের হাতে আটক হন। ২০১৬ সালে দুই দফায় মারধর, পুলিশের হাতে গ্রেফতার ও পরে মুক্তি পান।
২০২০ সালের ২৫ মার্চ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দিনে তার গাড়ি বহর থেকেই কারওয়ান বাজার সিগন্যাল মোড় থেকে পুলিশ কর্তৃক আটক, শারীরিক নির্যাতন ও কারারুদ্ধ হন।
২০২৩ সালের ২৯ জুলাই বিএনপি ঘোষিত ঢাকা মহানগরীর সকল গুরত্বপূর্ণ প্রবেশমুখে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ‘অবস্থান’ কর্মসূচি পালনকালে রাজধানীর মাতুয়াইল এলাকায় পুলিশের গুলিতে গুলিবিদ্ধ হন এবং এখনো নয়টি গুলি শরীরের বিভিন্ন স্থানে বহন করছেন।
২০২০ সালে করোনা মহামারীর সময় তিনি ছাত্রদলের পক্ষ থেকে অসহায় মানুষদের মাঝে খাদ্য ও সহায়তা পৌঁছে দেন। বর্তমানে তিনি জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজ করছেন।
হাসিনা সরকারের পতনের দিন ৫ আগস্ট সকালে শহীদ মিনারে জড়ো হতে গেলে পুলিশ গুলি-সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে আন্দোলনকারীদের ছত্র-ভঙ্গ করে দেয়। সেখানে ছিলেন তারিক। পরে পলাশী মোড়ে জড়ো হয়ে নেতাকর্মীদের নিয়ে সকাল ১১টায় রওনা দেন শাহবাগের পথে। কারফিউ ভেঙে নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে যাওয়ার পথে শাহবাগ থানার সামনে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর বাধার মুখে পড়েন তারিক। সে বাধা অতিক্রম করে শাহবাগ দখলে নেতৃত্ব দেন।

