অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ব্যর্থতার অভিযোগে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করছে হাজার হাজার মানুষ। শনিবার রাজধানী কুয়ালালামপুরের মারদেকা স্বাধীনতা চত্বরে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষোভ সমাবেশটি আয়োজন করেছে বিরোধী দল পারিকাতান ন্যাশনাল (PN) ও পাস (PAS)। তাদের অভিযোগ,
তবে চমকপ্রদ বিষয় হলো বিক্ষোভকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। সরকারের নীতিনির্ধারণে অনিশ্চয়তা, অর্থনৈতিক সঙ্কট মোকাবেলায় ব্যর্থতা এবং মূল্যস্ফীতির লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির ফলে
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, সরকারের নীতিনির্ধারণে অনিশ্চয়তা, অর্থনৈতিক সঙ্কট মোকাবেলায় ব্যর্থতা এবং মূল্যস্ফীতির লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির ফলে হতাশায় ভুগছে সাধারণ মানুষ। সেখান থেকেই এই আন্দোলনের সূত্রপাত।
বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। তারা বলছেন, Turun Anwar এখন শুধু একটি স্লোগান নয়- প্রতিবাদের প্রতীক।
আন্দোলনকারীরা যদিও ঘোষণা দিয়েছিলেন যে বিক্ষোভে ১০ লাখ মানুষের সমাগম ঘটানো হবে। কিন্তু আজ শনিবার (২৬ জুলাই) সকালে দেখা যাচ্ছে- ৪ থেকে ৫ হাজার মানুষ আন্দোলন জারি রেখেছে। মিছিলকারীরা দুপুর ২টা থেকে জাতীয় মসজিদ, কাম্পুং বারু, সোগো, পাসার সেনী প্রভৃতি স্থান থেকে মিলিত হয়ে দাতারান মেরদেকার দিকে অগ্রসর হচ্ছেন। শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে প্রায় ২ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে। বিশেষভাবে নজরদারি চলছে যাতে কোনো ধরনের উস্কানি বা সহিংসতা না ঘটে। কর্তৃপক্ষ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সড়ক আংশিকভাবে বন্ধ রেখেছে এবং নগরবাসীকে বিকল্প রুট ব্যবহারের অনুরোধ জানিয়েছে।
বিরোধীদের দাবির মুখে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম যে অবস্থান নিয়েছেন, তা গণতান্ত্রিক উদারতার নজির হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, মতপ্রকাশের অধিকার গণতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যতক্ষণ আন্দোলন শান্তিপূর্ণ থাকবে, ততক্ষণ তা দমন করার কোনো কারণ নেই। আমি চাই তাদের কণ্ঠস্বর প্রকাশে কেউ যেন ভীত না হয়। তার এই বক্তব্য সমর্থন করেছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও বলছেন, এমন বার্তা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দায়িত্বশীল নেতৃত্বের ইঙ্গিত দেয়।

