কার্যক্রম স্থগিত হওয়া বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতারা ও সাবেক কয়েকজন মন্ত্রী ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন ডেকেও শেষ পর্যন্ত তা বাতিল করেছে। বাংলাদেশে ‘গণহত্যা’ নিয়ে বুধবার এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিল শেখ হাসিনার দলটি। শেখ হাসিনা নিজেও এখন ভারতে অবস্থান নিয়েছেন।
অবশ্য সংবাদ সম্মেলন বাতিলের ব্যাপারে দলটি বলছে, ঢাকায় বিমান বিধ্বস্তে হতাহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) এ খবর জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস।
খবরে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (বিএইচআরডব্লিউ) ব্যানারে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক সংস্থাটির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আলী সিদ্দিকী আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠজন বলে পরিচিত।
গতবছরের আগস্টে ছাত্র আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ আলী সিদ্দিকী আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার সমর্থনে যুক্তরাষ্ট্রে বেশ কয়েকটি ইভেন্টের আয়োজন করেছেন।
আয়োজকরা বলেছিলেন, আওয়ামী লীগের ‘গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও মন্ত্রীরা’ গোপালগঞ্জে ‘সামরিক নৃশংসতা ও গণহত্যা’ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখবেন। শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশহর গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশ ঘিরে গত ১৬ জুলাই সংঘটিত সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছিল।
সংবাদ সম্মেলনে যখন সাংবাদিকরা উপস্থিত হন তখন মুহাম্মদ আলী সিদ্দিকী একটি বিবৃতি পড়ে শোনান। তাতে বলা হয়, গত সোমবার ঢাকায় বিমান বিধ্বস্তে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সম্মান জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনটি স্থগিত করা হলো।
সামরিক ট্রেনিং বিমানটি একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিধ্বস্ত হলে ৩২ জনের প্রাণহানি ঘটে, যাদের বেশির ভাগই শিশু। এছাড়া ১৭০ জনের মতো আহত হয়েছে এ ঘটনায়।
তিনি বলেন, ‘এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ও তাদের শোকাহত পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে, আমরা সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
এ বিষয়ে পরে সংবাদ সম্মেলনের ‘উপযুক্ত সময়’ জানানো হবে বলেও জানান তিনি।
এ সময় তিনি বিমান বিধ্বস্তের ব্যাপারে ‘স্বাধীন তদন্তের’ দাবি জানান এবং মোহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে তোলা আওয়ামী লীগের অভিযোগ পুনরুত্থাপন করেন।
হিন্দুস্তান টাইমস লিখেছে, ওবায়দুল কাদের, হাছান মাহুমদ, আসাদুজ্জান খান কামাল, মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলসহ আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী গত কয়েকদিনে নয়াদিল্লিতে এসেছিলেন এবং তাদের অনেককে ওই সংবাদ সম্মেলনে থাকার কথা ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বিষয়টির সাথে সংশ্লিষ্ট একজন বলেছেন, ‘সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য ভারতীয় পক্ষের সাথে যোগাযোগের প্রচেষ্টা চলছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাছাড়া, ভারতীয় পক্ষ বলেছে যে তারা বাংলাদেশের কোনো দলকে সমর্থন করে না এবং এ ধরনের ঘটনা তাদের অবস্থানের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।’
যদিও ভারতীয় পক্ষ থেকে এই সম্পর্ক উন্নয়নের ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বাংলাদেশের ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে এ সরকারের সমালোচনা করে আসছে ভারতীয় পক্ষ। বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের, বিশেষ করে হিন্দুদের ওপর ‘নির্যাতনের’ ক্ষেত্রে তত্ত্বাবধায়ক প্রশাসনের ভূমিকার সমালোচনা করেছে এবং নয়াদিল্লি বেশ কয়েকটি আমদানি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যা ভারতীয় স্থল ও সমুদ্রবন্দর দিয়ে বাংলাদেশী পণ্যের প্রবাহকে প্রভাবিত করেছে।

