ভারতের রাজস্থানে স্কুলের ছাদ ভেঙে ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরো ২৯ জন আহত হয়েছে। শুক্রবার সকালে রাজস্থানের ঝালাওয়ারে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
মনোহর থানার পিপলোদি সরকারি স্কুলের ছাদ ভেঙে পড়ে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ। স্কুলে তখন ৬০টি শিশু এবং শিক্ষক ও স্কুলের কর্মীরা ছিলেন। স্কুল তখনো শুরু হয়নি। সেই সময় এই ঘটনা ঘটে। বেশ কিছু শিশু ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকে পড়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ২৯ জন আহতের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এই স্কুলে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হতো।
কেন এই দুর্ঘটনা?
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় গ্রামের মানুষ জানিয়েছেন, গত কয়েকদিন ধরে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলে এই স্কুল ভবনের অবস্থা আরো খারাপ হয় এবং ছাদ ভেঙে পড়ে। কিছু মানুষের অভিযোগ, এই স্কুল ভবনটির অবস্থা আগে থেকেই খারাপ ছিল। বারবার অভিযোগ করেও কিছু হয়নি।
রাজস্থানে এটা সাম্প্রতিক সময়ে স্কুলের ভেতরে ঘটা তৃতীয় ঘটনা। গতবছর বারমেরে স্কুলের দেয়াল ধসে বাচ্চারা মারা যায়। বিকানিরে স্কুলে পানির ট্যাংকের ছাদ ধসে বাচ্চারা মারা যায়। তারপর ঝালাওয়ারে এই কাণ্ড হলো।
স্থানীয় মানুষের বক্তব্য, পঞ্চায়েত ও বিডিও-র দায়িত্ব হলো স্কুলভবনের অবস্থা যে খারাপ সেটা উপরতলায় জানানো। একদিন আগেই এনডিটিভি-তে রাজস্থানের করোলিতে একটি স্কুলের ছবি দেখানো হয়েছিল। সেখানে ছাদের উপর থেকে পানি পড়ছিল। ক্লাসে গামলা বসিয়ে সেখানে পড়াশুনো চলছিল।
স্থানীয়রা আরো জানিয়েছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে রাজস্থানে এখন প্রবল বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে এখন আগের অবস্থা আর নেই। এই ধরনের বাড়িগুলোর ক্ষেত্রে বাড়তি নজর দেয়া দরকার।
রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য
রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী মদন দিলাওয়ার জানিয়েছেন, ‘আমি জেলার শিক্ষা দফতরের কর্মীদের বলেছি, আহত শিশুদের যেন সরকারি খরচে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। পুরো ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্ত করা হবে। কেন এই দুর্ঘটনা হলো, কেন ছাদ ভেঙে পড়লো তা তদন্ত করে দেখা হবে।‘
তিনি বলেছেন, ‘জেলাশাসকের সাথে আমার কথা হয়েছে, শিক্ষা দফতরের কর্মকর্তাদের সাথেও কথা হয়েছে। সবাইকে বলেছি, ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে। মানুষের যে সাহায্য দরকার তা দিতে।‘
জেলা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, তারা পুরোদমে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন।
প্রধানমন্ত্রীর শোক
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক্স-এ লিখেছেন, ‘এই ঘটনা খুবই শোকাবহ। এই কঠিন সময়ে আমার ভাবনা দুর্গত পরিবারগুলোর সাথে আছে। আমি আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। কর্তৃপক্ষ দুর্গতদের সম্ভাব্য সব ধরনের সাহায্য করছে।’সূত্র : ডয়চে ভেলে

