ক্রীড়া প্রতিবেদক
‘ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন, এই মুহূর্তে কোনো ভাষায় খুঁজে পাচ্ছি না। কোন ভাষায় প্রকাশ করলে শান্তি পাব তাও বুঝে উঠতে পারছি না। সাগর-মহাসাগরের মতো উতাল-পাতাল এক ধরনের অনুভূতি। যখন আমাদের বোট ফিনিংয়ের হুইসেল দিল, তোমরা ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করেছ, আমার চোখে তখন পানি চলে আসে। আলহামদুলিল্লাহ, আমরা ব্যক্তিগতভাবে না হলেও রিলেতে ৩৭ বছর পর চ্যানেলে বাংলাদেশের পতাকা উড়াতে পেরেছি। তবে এই মুহূর্তে কোনো ভাষাতেই প্রকাশ করার মতো না।’
নিজের অনুভূতির কথা এভাবেই প্রকাশ করলেন ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেয়া বাংলাদেশী সাঁতারু নাজমুল হক হিমেল।
চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে একই ফ্লাইটে লন্ডনের উদ্দেশে পাড়ি দিয়েছিলেন মাহফিজুর রহমান সাগর ও নাজমুল হক হিমেল। গত ২৫ জুলাই চ্যানেলে নামার কথা ছিল দুই সাঁতারুর। কিন্তু আবহাওয়া খারাপ হওয়ায় সেদিন চ্যানেলে নামা হয়নি তাদের। ইংল্যান্ডের দিকে আবহাওয়া ভালো হলেও খুবই খারাপ অবস্থা ছিল ফ্রান্সের এদিকটায়। তবে সেদিন হতাশ হয়ে ফিরলেও এবার ঠিকই ইংলিশ চ্যানেল জয় করলেন সাগর ও হিমেল। ৩৪ কিলোমিটার সাঁতরেছেন চারজন।
বাংলাদেশের দুই সাঁতারুর সাথে ছিলেন ভারতের দুজন। তারা রিলে পদ্ধতিতে সফলভাবে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিলেন।
ইংল্যান্ডের স্থানীয় সময় সোমবার রাত আড়াইটার দিকে সাঁতার শুরু করার পর শেষ করতে বাংলাদেশের দুই সাঁতারুর সময় লেগেছে ১২ ঘণ্টা ১০ মিনিট।
বাংলাদেশের প্রথম সাঁতারু হিসেবে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়েছিলেন ব্রজেন দাস। ১৯৫৮ সালের ১৮ আগস্ট তিনি চ্যানেল পাড়ি দিয়েছিলেন। এরপর এই চ্যানেল পাড়ি দিয়েছেন আরো দুই সাঁতারু। তারা হলেন- আবদুল মালেক ও মোশাররফ হোসেন। তৃতীয় বাংলাদেশী হিসেবে ১৯৮৭ সালে চ্যানেল পাড়ি দিয়েছিলেন মুন্সিগঞ্জের সাঁতারু মোশাররফ।
পরে পাড় হয়েছে ৩৭ বছর। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর এবার সেই তালিকায় যোগ দিলেন বাংলাদেশের সাঁতারু আরো দুই সাঁতারু। ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে ৩৭ বছর পর তিল তিল করে বুনা নিজেদের স্বপ্ন পূরণ করলেন সাগর ও হিমেল।

