দায়িত্বে অবহেলা, চাঁদাবাজ, চোর চক্র ও ছিনতাইকারীদের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ওসিকে অপসারণের দাবিতে থানার সামনে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
শুক্রবার বিকাল ৫টার দিকে মোহাম্মদপুর থানার সামনে ‘ঐক্যবদ্ধ মোহাম্মদপুর’ ব্যানারে বিক্ষোভ করেন তারা।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে স্থানীয় বাসিন্দা পারভেজ হাসান সুমন বলেন, ‘মোহাম্মদপুর থানার ওসি বিরুদ্ধে বাসিন্দাদের সাথে অসদাচারণ, আইনি সহায়তা না দেয়াসহ নানা অভিযোগ থাকার পরও তাকে অপসারণ করছে না।’
তিনি মোহাম্মদপুরের মতো একটা ক্রাইম জোনে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও ছিনতাইকারীদের সঙ্গে আঁতাত করে চলেন। যার ফলে আইনশৃঙ্খলার ব্যাপক অবনতি হচ্ছে। এত অভিযোগ, এত অসদাচারণের পরও তাকে পুলিশ হেডকোয়ার্টার অপসারণ না করার আমরা স্থানীয়রা ভীত সন্ত্রস্ত্র।
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা যারা ওসির এসব অসদাচারণের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছি তখনই আমাদের কারো না কারো বিরুদ্ধে ওসি ব্যবস্থা নিতে চেয়েছিল। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের পরও কী তদন্ত হয় তা একমাত্র পুলিশ প্রশাসনই জানে। আমরা এ ওসির দ্রুত অপসারণ চাই। তাহলে মোহাম্মদপুরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।’
আরেক বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন পাটোয়ারী বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে ওসির এসব কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা করে আসছি। তার বিরুদ্ধে এত অভিযোগ থাকার পরও পুলিশ হেডকোয়ার্টার কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।’
বৃহস্পতিবার রাতে মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ এলাকায় তিন রাস্তা মোড়ে ছিনতাইয়ের ঘটনা আইনি সহায়তা ও ওসির অসদাচরণ এবং পুলিশের গাফিলতির অফিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন আহমাদ ওয়াদুদ নামে এক সাংবাদিক।
পোস্টে তিনি লেখেন, আজ (বৃহস্পতিবার) রাত ১১টার দিকে মোহাম্মদপুরে আমার সঙ্গে একটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ছিনতাইকারীরা আমার একটি মোবাইল ফোন এবং কিছু টাকা-পয়সাসহ মানিব্যাগ নিয়ে যায়। আমাকে চাপাতি দিয়ে আঘাত করে। ছিনতাইয়ের ঘটনায় মোবাইল উদ্ধারসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
এ ঘটনা ভাইরালের পর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে মোহাম্মদপুর থানার চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করা হয়েছে। প্রত্যাহার হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন- এসআই জসিম উদ্দিন, এএসআই আনারুল এবং পুলিশ সদস্য মাজেদুর রহমান ও মো. নুরুন্নবী।

