মাত্র ৪০ মিনিট আগে বিশ্বকাপের জন্য ১৫ সদস্যের নারী কাবাডি দল ঘোষণা করেছিল বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশন। কিন্তু সংবাদ সম্মেলন শেষ হওয়ার কিছু সময় পরই ভারত থেকে ই-মেইল আসে—স্থগিত হয়েছে ৩-১৩ আগস্ট হায়দরাবাদে অনুষ্ঠিতব্য দ্বিতীয় নারী কাবাডি বিশ্বকাপ।
শনিবার (২৬ জুলাই) ঢাকার বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের ডাচ্-বাংলা অডিটোরিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনে এই স্কোয়াড ঘোষণা করে ফেডারেশন। অধিনায়ক হিসেবে অভিজ্ঞ রুপালীসহ পূর্ণাঙ্গ স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়। এরপরই ভারত থেকে আসে সেই হতাশাজনক বার্তা।
এই বিষয়ে বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এস এম নেওয়াজ সোহাগ বলেন, সংবাদ সম্মেলন শেষ হওয়ার পরপরই মেইল পাই। আয়োজকরা জানিয়েছে, অংশগ্রহণকারী দলগুলোর কন্টিনজেন্ট তালিকার সরকারি অনুমোদন না পাওয়ায় টুর্নামেন্ট স্থগিত করা হয়েছে। নতুন সময়সূচি পরে জানানো হবে।
সংবাদ সম্মেলনে ভিসা জটিলতা নিয়েও আলোচনা হয়। চাইনিজ তাইপে ও আরও কয়েকটি দেশের ভিসা ইস্যু অনিশ্চিত ছিল। বাংলাদেশ দলের ভিসা আবেদন জমা দেওয়ার কথা ছিল পরদিন। বিশ্বকাপ স্থগিত হওয়ায় সেটি আর হচ্ছে না।
তবে হতাশ না হয়ে ক্যাম্প ও অনুশীলন চালিয়ে যাবে ফেডারেশন। নেওয়াজ সোহাগ বলেন, বিশ্বকাপ স্থগিত হওয়া দুঃখজনক। তবে কাবাডির মানোন্নয়নে আমরা অনুশীলন অব্যাহত রাখব।
সংবাদ সম্মেলনে ফেডারেশন ২০২৫-২৬ মৌসুমের নতুন ক্রীড়াপঞ্জি ঘোষণা করে। জাতীয় পর্যায়ে ১০টি, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ৭টি এবং প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের ৪টি ইভেন্ট থাকছে। প্রথমবারের মতো খেলোয়াড়দের জন্য মাসিক বেতন চালু হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ইয়ুথ এশিয়ান গেমসে অংশ নিতে যাওয়া অনূর্ধ্ব-১৮ নারী দলের ২০ জন সদস্য এই সুবিধা পাবেন। পর্যায়ক্রমে পুরুষ দলকেও মাসিক বেতনের আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি খেলোয়াড়দের ইনজুরি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থা করেছে ফেডারেশন।
আগামী ২৯ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে জাতীয় কাবাডি (নারী ও পুরুষ) চ্যাম্পিয়নশিপ। অংশ নেবে দেশের ৬৪টি জেলা। আটটি জোনে ভাগ করা হয়েছে—পদ্মা, তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, কর্ণফুলী, রুপসা, ধানসিঁড়ি, সুরমা ও মধুমতি। প্রতিটি জোনের খেলা নির্ধারিত ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে।
জোন চ্যাম্পিয়নরা আন্তঃজেলা চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেবে। সেখান থেকে সেমিফাইনালে ওঠা চার দল সার্ভিসেস দলগুলোর সঙ্গে মূল জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে খেলবে।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ গোপালগঞ্জ মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের অনুকূলে বরাদ্দ দিয়েছে। ১২ একরের কমপ্লেক্সটিতে ইনডোর জিমনেশিয়াম, সুইমিংপুল, হোস্টেল, খেলার মাঠ ছাড়াও থাকবে একাডেমিক কার্যক্রম, কোচ, রেফারিজ ও ট্রেইনারদের জন্য ট্রেনিং সুবিধা। শিগগিরই সংস্কার কাজ শুরু হবে।
আগামী ৩ আগস্ট মাঠে গড়ানোর কথা ছিল এই নারী বিশ্বকাপ। ১ তারিখ হায়দরাবাদের বিমান ধরার কথা ছিল লাল-সবুজ প্রতিনিধিদের।

