সম্প্রতি সময়ে আগুন পোড়ার ঘটনা দেশে বেড়েছে। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে দুর্ঘটনা কিংবা প্রসূতি মায়ের জন্য রক্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এমন সময়েও অনেকে নানা ভ্রান্ত ধারণার কারণে রক্ত দিতে চান না। তবে ইসলামের বিধান রক্তদানকে শর্তসাপেক্ষে সম্পূর্ণ বৈধ করেছে।
মানুষের জীবন বাঁচাতে কোনো রকম বিনিময় ছাড়া আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় রক্তদানও একটি ইবাদত। কেউ যদি একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় এই ইবাদত করতে পারে, তাহলে সে মহান আল্লাহর কাছে এর উত্তম প্রতিদান পাবে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, আর যে মানুষের প্রাণ বাঁচালো, সে যেন তামাম মানুষকে বাঁচালো। (সুরা মায়েদা, আয়াত : ৩২)
নবীজি (সা.) বলেন, মানুষ যতক্ষণ অন্য মানুষের সহযোগিতায় নিয়োজিত থাকে, আল্লাহ ততক্ষণ তার সহযোগিতা করতে থাকেন। (সহিহ্ মুসলিম: ৬৭৪৬)। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে অন্যের বিপদ দূর করবে, আল্লাহ কেয়ামতের দিন তার বিপদ দূর করে দেবেন। (সুনানে আবু দাউদ: ৪৮৯৩)’
আমাদের সমাজে কেউ কেউ মনে করেন, রক্ত দিলে নিজের শরীরে অনেক ঘাটতি হয়। বিষয়টি সঠিক নয়। বরং যেকোনো সুস্থ-সবল মানুষ রক্তদান করলে স্বাস্থ্যের কোনো ক্ষতি হয় না। ফকিহগণ কয়েকটি শর্ত সাপেক্ষে রক্ত দেয়া বৈধ সাব্যস্ত করেছেন।
যখন কোনো অসুস্থ ব্যক্তির জীবননাশের আশঙ্কা হয় এবং অভিজ্ঞ ডাক্তারের মতে তার শরীরে অন্যের রক্ত প্রবেশ করানো ছাড়া বাঁচানোর অন্য কোনো পন্থা না থাকে।
যখন অসুস্থ ব্যক্তির মৃত্যুর আশঙ্কা নেই, কিন্তু রক্ত দেয়া ছাড়া তার জীবনের ঝুঁকি বাড়ে। অথবা রোগমুক্তি বিলম্বিত হয়, এ দুই অবস্থায় রক্ত দেয়া জায়েজ।
যখন রোগীর শরীরে রক্ত দেয়ার খুব বেশি প্রয়োজন দেখা না দেয় বরং রক্ত না দেয়ার অবকাশ থাকে, তখন রক্ত দেয়া থেকে বিরত থাকবে।
যখন জীননাশের এবং অসুস্থতা বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা না হয় বরং শুধু শক্তি বৃদ্ধি এবং সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্দেশ্য হয়, সে অবস্থায় ইসলামি শরিয়তে রক্তদান জায়েজ নয়।
অতএব মুমিনের উচিত, একান্ত আল্লাহ তায়ালাকে খুশি করার উদ্দেশ্যে মুমূর্ষু রোগীকে রক্ত দিয়ে সহযোগিতা করা। তাদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসার সুযোগ আল্লাহ সবাইকে দান করুন।

