দ্য গ্রেট ইউসলেস
কানিজ ফাতেমা তুরমনি
দিলি তো ফুলদানিটা ভেঙে। সত্যিই, তুই এতো বড় হয়ে গেছিস! কিন্ত, তোর মধ্যে কোনো লক্ষ্মীর লক্ষণ দেখা যায় না । আরে , এটা যে তোর বড় দাদা বিলেত থেকে আনিয়েছিলেন। কত দাম এটা জানিস?
পিছন বারান্দা থেকে উঠে নিজের রুমে চলে আসলাম। বেলকানিতে দোলনার উপর বসে কিছু একটা লিখতে শুরু করব। তৎক্ষণাৎ , সেই শালিক পাখি যে গতকাল আমার ঘরের জানালায় বল মেরে ভেঙে ফেলেছেন। শালিক পাখিটাকে দেখে একটু বিরক্ত লাগল। ওরে কিছু বলার আগেই ওই বলল যে: কালকে কি তোমার মা তোমাকে রাগ করেছিলো?
আমি: হ্যাঁ !
পাখি : I’m sorry.. যাই হোক, তোমার নাম কি?
আমি: Useless
পাখি: so , funny ! ভালো নাম কি?
আমি: The great Useless.
পাখি: আমি বলতে চেয়েছি যে তোমার জন্মগত কোনো নাম নেই?
আমি: আছে , বলব না l
পাখি: কেন?
আমি: এমনি ।
পাখি : তুমি আমার নাম জানতে চাও না ?
আমি : তুমি মিমি । আর আমি এটাও জানি তুমি মনে মনে আমাকে পাগল ভাবছ ।
পাখি : আমি যাই তাহলে।
আমি আবার লেখতে শুরু করলাম । এখানে বলা বাহুল্য যে,
শালিক পাখি একটা মেয়ে ।
মাঝে মাঝে ওরে রাস্তায় প্রতিবাদ মূলক কাজ করতে দেখা যায় l কেন ওর নাম salik পাখি দিয়েছি জানি না ।
। টা টপিক এর উপর সর্বোচ্চ 120 second কথা বলতে হয় । তাই আর কিছুই বলব না ।
আসলে Useless ra আমার মত হয় । তা নাহলে আমি এতদিন ধরে লেখালেখির কাজ করতেছি l কিন্তু ,এখনও কোনও একটা Masterpiece তৈরি করতে পারলাম না । এইতো, একটু আগেই বিড়ালের কারণে ফুলদানি টা ভেঙে গেল। কিন্তু , মা আমাকে রাগ করল l ক্লাস 9 -10 এ যখন পড়তাম , তখন নিজেকে এতটাও Useless মনে হতো না । তবে একজন আমাকে Useless মনে করত l তার মাথায় যদি একটুও ঘিলু থাকে তাহলেই সে বুঝতে পারবে কথাটা যে তাকেই বলছি । শেষে একটা কথাই বলব যে, আমি walt whitman এর ‘O me ! O life’
কবিতার একটা অংশকে support করি।
বিকেলবেলা যখন জানালা দিয়ে তাকালাম তখন দেখি পাখি ডাকছে ।
পাখি : নিচে আসো । পূর্বের মাঠে ঘুড়ি উড়ান । যাবে নাকি?
আমি: না !
শালিক : আরে, সারাদিন বসে থাকার চেয়ে এটা best ।
আমি : Good. But , l have no interest to go .
মা : তা , যাবি কেন ? আমার মাথা খাঁ।
আমি : মা ! তুমি কী চাও বল ?
মা : আমি চাই, তুই অন্য সবার মতো স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন কর। 3 টা দিন ছাড়া কখনো হাসতেও দেখা যায় না। যা , মা একটু ঘুড়ে আয় ।
আমি তৈরী হতে গেলাম। ওদিকে শালিক আর মা কথা বলছে ।
শালিক: ওর কী হয়েছিল আন্টি?
মা : তেমন কিছু না ।
শালিক: আচ্ছা ও কোন 3 দিন হাসে ?
মা : 2 April ,14 August, 31 August .
আমি chainroom থেকে বেরিয়ে শালিকে নিয়ে নিচে চলে আসলাম।
শালিক : what is your hobby?
আমি : কিছুই না ।
শালিক: তাহলে ,কেন লেখালেখির কাজ কর ?
আমি : মায়ের জন্য লেখি ।
শালিক: আচ্ছা ! তোমার dream কী ?
আমি : আম্মুকে স্বাধীনতার দেশে বেড়াতে নিয়ে যাব ।
আমি ঘুড়ি উড়ান দেখে বাসায় এসে দেখি মা ছোপায় বসে কান্না করছে । বুঝতে আর বাকি রইল না যে , সেই লোকটা আবার আম্মুকে কল করেছে । আম্মুর থেকেই জানতে পারলাম বাপি আজ বাড়ি আসবে । এই লোকটা আম্মুকে তঃলে তঃলে মেরে ফেলবে । আম্মু 25 বছর যাবৎ চাকরি করছে । সেই টাকা গুলো তার চাই । আম্মুকে বিয়ে করেছিল ঠিকই কিন্ত আম্মুকে কখন ভালোবাসাতে পারেনি। সেই ছোটবেলা থেকেই দেখছি । বাপি আম্মুকে নানাভাবে অত্যাচার করে । অবশ্য অনেকেই এটাকে আমার আম্মুর নাটক বলে মনে করে । হঠাৎই আবার একটা ফোন আসল । আমি হ্যালো বলার সাথে সাথেই অপর পাশ থেকে বাপি বলল : আমি আজকে আসব না । আমাকে শুধু শুধু কল করবি না । আমি আম্মুকে বললাম বাপি আজকে আসবে না। আম্মু একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। আম্মু : একটা ভুল decision আমার জীবনটাকে ধ্বংস করে দিল। আমি কিছুই বললাম না। আম্মু নিজের রুমে চলে গেল ।আমিও আমার রুমে চলে গেলাম । চেয়ারের উপর বসে বসে ভাবছিলাম কী দোষ করেছে আমার মা ? অত্যাচারের শিকার হবে আবার মানুষ সেটাকে নাটক বলে চালিয়ে দেবে ? আমার আম্মুর তো দায়িত্ব পালনে কোন কমতি ছিল না , তবুও….।
এইসব ভাবতে ভাবতেই ঘুমিয়ে পড়লাম । ঘুমের মধ্যে একটা দুঃস্বপ্ন দেখে ঘুম ভেঙে গেল । প্রতিদিনের মত আজও বেলকানিতে দাড়িয়ে বাইরের জিনিস পর্যবেক্ষণ করলাম। হঠাৎ দেখি বাপির গাড়ি নিচে । বাপি আমাকে দেখল । সঙ্গে ছিল একটা মহিলা ।শাড়ি পড়া। আমার আর বুঝতে বাকি রইল না । বাপি বিয়ে করেছে । সোজা উপরে এসে কলিং বেল চাপল । আম্মু বলল দরজা খুলতে। কিন্ত আমার হাত কাপছে। আম্মু নিজেই দরজা খুলে দিল। আম্মু যেন নিজের চোখেকেই বিশ্বাস করতে পারছে না । শুধু চোখে দিয়ে জল পরছিল । আমি কী বলব আর কাকে বলব কিছুই বুঝতে পারছিলাম না । শুধু বাপিকে একটা কথা জিজ্ঞেস করলাম যে , কেন বাপি ?
বাপি উত্তরে বলল বাপি বলল আরও 15 বছর আগেই নাকি বিয়ে করেছে । আম্মু একদম motionless হয়ে পড়েছিল। তার উপর সেই মহিলা বলল সে নাকি এত মানুষের মধ্যে থাকতে পারবে না । তাই বাপি আমাকে আর আম্মুকে বলছে এই বাড়ি ছেড়ে দিতে । এগুলো বছর আমি কিছুই বলিনি কিন্ত আমার মনে হচ্ছিল যে আমার আম্মুর অধিকার নষ্ট করছে তারা । আমি বললাম আম্মু কোথাও যাবে না । এটা আম্মুর বাড়ি । কিন্ত আম্মু আমাকে বলল চুপ করতে । আমি কিছু বলার আগেই আম্মু আমার হাত ধরে বেরিয়ে পড়ল । আমারা বাগান বাড়িতে চলে গেলাম । সেখানকার লোকজনদের আমার খুব একটা পছন্দ নয় । 2 দিন ধরে আম্মু কোন কথা বলছে না । সকালে যখন আড্ডাঘরে একা একা বসে বলেছিলাম। তখন , আম্মু এসে বলল, ” আগে আড্ডাঘরে কত মানুষ আমারা একসাথে গল্প করতাম তোর বাপিও ছিল আমাদের সাথে । একা একা এই ঘরে কেমন যেন লাগে । চল , বাইরে থেকে একটু হেঁটে আয় । ” আমি কিছু না বলে বাইরে চলে গেলাম সেই পুকুরের পাশে । সেখানে যেতে বাগান বাড়ি থেকে 5 মিনিট লাগে । আগে বাপির সাথে অনেক আসতাম এইখানে । আরও বেশ কিছুক্ষণ বাইরেই হাটছিলাম । হঠাৎই দেখি বাপি গাড়ি নিয়ে কোথাও একটা যাচ্ছে । মনে হয় আম্মুর কাছ থেকে টাকা চাইতে এসেছিল। কিন্ত এত তাড়াহুড়ো কেন করছিল বুঝতে পারছিলাম না । বাড়িতে গিয়ে দেখি রক্ত। দৌড়ে আম্মুর কাছে যেয়ে দেখি আম্মু … । বাপি কীভাবে এটা করল আমি জানি না । আমি তমলকে কল করলাম। সবকিছু বললাম ওকে । আম্মুর দাফন কাফন শেষ হল । আমার মনে একটা চিন্তা আম্মুর খুনিকে শাস্তি দিব। তমল আমাকে বলেছিল ওর সাথে ঢাকা চলে যেতে । কিন্ত আমি না বললাম। আমি বললাম, ” বাপিকে মেরে ফেলব ।”
তমল : পাগলামি করিস না ।
দুদিন পর চোরাই বাজার থেকে একটা বন্দুক কিনে আনলাম । সেদিনই বাপি এসেছিল। লোকেদের কাছে বলছিল যে , সন্তানদের সাথে দেখা করতে এসেছে। বাপি তমলের সাথে কথা বলছে ।
তমল : কেন করেছিল এমনটা ? আমার মাকে কেন মারলে ? খুনি তুমি একটা ।
তার কিছুক্ষণ পরে একটা গুলি করার শব্দ পেলাম। আমিও আমার বন্দুক নিয়ে তৈরি হয়েছিলাম। আমি নিচে চলে আসলাম দেখলাম যে , তমল মাটিতে পড়ে আছে।আর বাপিকেও আশেপাশে কোথাও দেখতে পেলাম না । সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠেছিলাম পিছন থেকে একটা বুলেট এসে লাগল আমার পিঠে । প্রথমবারের মত গুলিবিদ্ধ হলাম । সামনে ঘুরে আমিও একটা শুট করলাম। বাপির কপালে গিয়ে লাগল। আমার মনে অদ্ভুত একটা কষ্ট অনুভূত হল । শুধু একটা কথাই বলব শেষে , আমার নাম হলো আলো।

